কলম্বোর ম্যাচটা শুরু হয়েছিল ভারতের ব্যাটিং দাপটের ইঙ্গিত দিয়ে, কিন্তু শেষটা হলো হিসেবি। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পাকিস্তান টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরুতেই ধাক্কা—প্রথম ওভারেই অধিনায়ক সালমান আলী আগার বলে শূন্য রানে বিদায় নেন অভিষেক শর্মা।
তবে সেই ধাক্কা দ্রুত সামলে নেন ওপেনার ইষাণ কিষাণ। তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাল্টা আক্রমণে যান। পাওয়ারপ্লের পরও থামেননি, ২৭ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে বাড়াতে ইনিংসকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস-১০টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো-ভারতকে উড়ানের মঞ্চ তৈরি করে দেয়। ৮.৪ ওভারে দলের রান যখন ২ উইকেটে ৮৮, তখন দুইশো ছোঁয়ার স্বপ্ন অমূলক মনে হয়নি।
কিন্তু সেখানেই বাঁক নেয় ম্যাচ। সাইম আইয়ুব ইষাণকে ফিরিয়ে দিলে ভারতের ছন্দে চিড় ধরে। তিলক-সূর্যকুমারের ৩৭ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিলক ২৪ রানে থামেন, পরের বলেই ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়া। ক্রিজে সময় কাটিয়েও বড় রান করতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব; ২৯ বলে ৩১ রান করে আউট হন।
প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৯২ রান তোলা ভারত শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ৮৩ রান। শেষ পাঁচ ওভারে ৪৮ রান তুলতে গিয়ে তিন উইকেট হারানোয় গতি পুরোপুরি কমে যায়। পুরো ইনিংসে ৪৩টি ডট বল ভারতের রান তোলার ধারাকে আরও শ্লথ করে।
পাকিস্তানের হয়ে সাইম আইয়ুব নেন তিন উইকেট। সালমান ও উসমান গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাত করেন। শেষ ওভারে দুই উইকেট নিলেও শাহিনের বোলিং ছিল ব্যয়বহুল।
সব মিলিয়ে, এক প্রান্তে ইষাণ কিষাণের ঝলকানি আর অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন-এই দুই বিপরীত চিত্রেই গড়া ভারতের ইনিংস। বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭৫/৭-আক্রমণাত্মক শুরু আর মাঝপথের ভাটার গল্পই যেন হয়ে রইল ম্যাচের সারাংশ।










Discussion about this post